আকদ হুকুমা থেকে আহলি ট্র্যান্সফার এর আইন কি দেয়া হবে ?

কুয়েতঃ কুয়েতে এখন প্রায় সব আকদ হুকুমার কোম্পানির লোক চাইছে আকদ হুকুমা থেকে আহলি ট্রান্সফারের সুযোগ দেয়া হোক, কিন্তু এই সুযোগ প্রায় এক যুগ আগে একবার দেয়া হয়েছিল, এর পরে আর এই সুযোগ দেয়া হয়নি।

আমি যতোটুকু জানি বা বিভিন্ন তথ্য দেখে যেটা বুঝলাম যে এই আইন আর না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশী, কারণ হচ্ছে আকদ হুকুমার প্রায় সব ধরণের কাজ খুব কষ্টের ও কম বেতনের তাই এই কাজ কেও করতে চায় না , বিশেষ করে ৭/৮ লাখ টাকা দিয়ে কুয়েত এসে কে রাস্তা পরিষ্কার বা গাছে কাটা ও গাছে পানি দিতে চায় বলুন?
সবাই চায় একটু বেশী বেতনের চাকুরী, নিজের স্বাধীনতা ও আরামদায়ক কাজ, তাই এই সুযোগ একবার দেয়ার পরে কুয়েত সরকার অনুভব করেছে যে প্রায় সব কোম্পানির লোক আকদ থেকে আহলিতে ট্র্যান্সফার হয়ে যাচ্ছে, আর যদি সবাই এই ভাবে ট্র্যান্সফার হয়ে জায় তাহলে দেখা যাবে ক্লিনার কাজ করার মানুষ পাবে না আর ওই দিকে আহলি বা প্রাইভেট খাতে অনেকেই বেকার থাকবে, তাই আমার মতে এই আইন আর দিবে না।

কুয়েত সরকার এই খাতের উন্নতির জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং আগের থেকে অনেকটাই উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জন্যই আমরা এতো কষ্টের কাজে ৭/৮ লাখ দিয়ে আসি, আগে কদ হুকুমার সর্বনিন্ম বেতন ছিল ২০ দিনার সেখানে এখন বেতন করা হয়েছে সর্বনিন্ম ৬০ দিনার। 

কেন আমাদের দোষ দিচ্ছি আসুন দেখে নেইঃ

কুয়েত সরকার আকদ হুকুমার ভিসা সম্পূর্ণ ফ্রিতে দিয়ে থাকে এবং এর ভিসার সাথে প্রতিটা লোকের বিমান খরচ পর্যন্ত কোম্পানির দেয়ার কথা, এটা এই সরকারের নিয়ম ও অন্য দেশের লোক মাত্র ৩০/৪০ হাজার টাকায় এই ভিসায় এসে কাজ করে, কিন্তু আমরা কি করছি ? এই ভিসার দাম আকাশ চুম্বী করে দিয়েছি, পাল্লা দিয়ে ভিসা কিনে আসছি, দালালের কথায় কান দিয়ে কোন কিছু না বুঝেই চলে আসছি, ভাই এখন ডিজিটাল যুগ সব কিছুই অনলাইনে দেখা জায়, আগে খোজ নিন তার পরে না হয় আসুন, আমরা যদি সবাই একসাথে বলি যে আমরা এতো টাকায় এতো কম বেতনে যাবো না তাহলে দেখবেন ফ্রিতে লোক নিয়ে আসবে।
অনেক দালাল বলেছে বেতন কম হলে কি হবে পার্ট টাইম কাজ করে বেতনের চেয়েও দিগুণ কামাবে, এসে কি দেখা যাচ্ছে ? আসল কাজ যেটা ৬০ দিনার সেটাই মিলছে না , ৩ মাস পর পর বেতন দেয়া হচ্ছে, আবার অনেক কোম্পানির ভিসাই জাল ভিসা, আবার কোন কোন কোম্পানি আছে তাদের কন্ট্রাক্ট নেই তাই লোক বসিয়ে রাখছে, তাদের ও কোন বেতন দিচ্ছে না। 
এইযে এই লোক গুলো কোথায় খায় কি করে এই খোজ খবর পর্যন্ত রাখছে না কোম্পানি গুলো। 
সমস্যা কুয়েতের না ভাই সমস্যা তৈরি করছি আমরাই, তাই আমাদের এর সমাধান বের করতে হবে, আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে দেশে কৃষি কাজ করে খাবো তাও এতো কম বেতনে ৭/৮ লাখ দিয়ে যাবো না, যদি এই ধরণের মনমানষিকতা সবাই তৈরি করি দেখবেন আমাদের দেশের লোক ও ৩০/৪০ হাজারে আসতে পারবো কুয়েতে। 

কুয়েত সরকার আমাদের সব ধরণের সহযোগিতা করে, কিন্তু আমরাই তাদের সহযোগিতা করি না, কুয়েতের আইনে টাকা দিয়ে ভিসা কেনা ও বিক্রি করা অপরাধ, তাই এই ধরণের প্রতারক হতে নিজেও সাবধান থাকি অন্যকেও সাবধান করি, আমরা আমাদের পেইজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সবাইকে আকদ হুকুমার ভিসায় ৭/৮ লাখ দিয়ে আসতে না করি, আমাদের পেইজে প্রতিদিন অনেক মেসেজ আসে ভিসা সংক্রান্ত, আমরা সরাসরি না করে দেই যে ভাই ভিসা খোলা নেই আর যেগুলো আছে সব আকদ হুকুমার ক্লিনার কোম্পানির ভিসা, যে ভিসায় আসলে লাভের চাইতে ক্ষতি হবে বেশী আপনার।

আপনারাও আমাদের মত করে বুঝিয়ে দেখুন আপনারা তো বিপদে পরেছেন বাকিরা কেও যাতে এই ধরণের বিপদে না পরে , তাই আমার পোস্ট কপি করুন, শেয়ার করুন, বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে প্রচার করুন।

সবার প্রতি শুভ কামনা রইলো, লিখায় ভুল হলে ক্ষমা করবেন, আমি প্রফেশনাল লেখক নই, আপনাদের জন্যই যেমন পারি তাই লিখি।
কপিরাইট: নুর আলম বাশার (লিপু) 

Related News

Add Comment