আমাদের ” সেকেন্ড হোম “! আমাদের কুয়েত …

কুয়েত সিটি : এই লেখাটা যখন লিখছি, তখন মনের ভিতরে গুমোট বাধা মেঘ! আপাতত অনেকরই ভবিষ্যৎ অজানা, গন্তব্য অজানা । করনার এই ভয়াল গ্রাসে আপাতত আমরা ” তীর হীন সমুদ্রে “!

এই তো সে কিছুদিন আগের কথা, সব কিছুই ঠিক ছিল! ঘুম ভাংগা সকালের পর, কর্মব্যস্ত দিন শুরু হতো! ওয়াতানিয়া, শ্যুক মিছিলা, কিংবা মোবারকিয়া! মুরগাব, ফাহাহিল, মানগাফ, মাহবুউল্লাহর বাংলাদেশী অধ্যুষিত গলিগুলো কর্মমুখর হয়ে উঠতো! প্রবাসীদের সে সুদিন আবার কবে ফিরবে জানা নেই! তবে করনা যে ” ক্ষত ” রেখে যাচ্ছে, যাবে, তা কবে কিভাবে কাটিয়ে উঠব আমরা অজানা সবারই!

মরার উপরে খাড়া হিসাবে যুক্ত হচ্ছে, আকামা সমস্যা! অনেকেই আকামাহীন হয়ে যাচ্ছে, গেছে! যদিও কুয়েত সরকারের বদন্যতায় প্রবাসীরা জরিমানার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, উপরন্তু বেকার, সাময়িক বেকারত্ব, প্রবাসে নিজের ব্যয়, ফ্যামিলি ও ব্যবসা বানিজ্যে জড়িত মানুষ গুলোর অবস্থা শোচনীয়!

করনা দুর, কুয়েতে লকডাউন চলাকালীন প্রচুর বাংলাদেশী হার্ট স্ট্রোক, ব্রেন স্ট্রোক করে ও মারা গেছেন, করনাতে ও কুয়েতে মারা যাওয়া বাংলাদেশী প্রবাসীর সংখ্যা কম নয়। বিদেশে মৃত্যুবরণ এর চাইতে কলিজা ফাটা কস্ট আর কিছু আছে বলে মনে হয়না!

প্রবাসীরা প্রবাসে আসে একবুক স্বপ্ন নিয়ে! ফ্যামিলিকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে বা নিজের মত করে সাজাতে, সেই প্রবাসীরাই যদি লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও অপদস্থ হয়, তাহ‌লে আর বলার বা লেখার মত কোন স্কোপ থাকেনা! প্রবাসীদের অধিকার এর জন্য প্রচুর সংগঠন আছে দেশে বিদেশে, কিন্ত অতি সত্য কথন হচ্ছে, এগুলো কার্যকর কোন ভুমিকা নিতে পারেনি! অন্যান্য দেশের মত আমাদের পাসপোর্ট এর মেয়াদ ও যদি ১০ বছর হতো, কুয়েতে আজ কত হাজার বাংলাদেশী আকামা জটিলতা এড়াতে পারতো, হিসাব আছে?

যাইই হউক, আমরা স্বপ্ন দেখি! স্বদেশে ফিরে যাব! গড়ে যাব এই দেশ হয়তো, তবে স্বপ্নের স্বদেশ লাঞ্চনা দিক, তা কাম্য নয়।

Related News

Add Comment