Uncategorized

আহা প্রবাস! হায় পরবাস …

মানুষটার বাড়ি রাজশাহী। বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। উনার সামনে ছিলো মোটামুটি ২০-২২ জন, যার ফলে উনাকে ব্যাংকের বাইরে রোদের মধ্যে দাঁড়াতে হচ্ছিলো।

খেয়াল করে দেখলাম উনি খুব হাঁপাচ্ছেন এবং বেশ কয়েকজনকে বলতেছে উনাকে একটু আগে সুযোগ দেয়ার জন্য, কিন্তু কেউ সুযোগ দিচ্ছিলোনা।

শেষে নিজে উনাকে ডেকে এনে আমার জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে আমি উনার জয়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এ কি মানুষটার মধ্যে সামান্য কৃতজ্ঞতাবোধও দেখলামনা। অন্তত ধন্যবাদটা দিতে পারতো!! ভাবলাম কাজ শেষ করে বের হলে গালি দিয়ে দিবো একদম, মনে মনে নিজেকে নিজে গালি দিচ্ছিলাম।

১২-১৪ মিনিট পর উনি টাকা জমা দিয়ে আসার সময় খুব কৃতজ্ঞতা ভরে শুকরান বললো। হাসি মুখে আমিও বললাম আফওয়াল, আর মনে মনে বললাম থাক আর দরদ দেখাতে হবেনা । তাও কৌতুহল বসত জিজ্ঞেস করলাম
-ভাই এতো তাড়া কিসের জন্য ?

-: উনি বললো ভাই কাজ থেকে আসছি মালিক আধা ঘন্টার সময় দিছে, এসময়ের মধ্যে না যেতে পারলে আজকের বেতনটা কেটে ফেলবে ভাই। তার উপর ভাই দৌড়ে আসার কারণে রোদে মাথা ঘুরাচ্ছে।
-তাহলে আজ না পাঠিয়ে কাল বা পরশু সময় সুযোগ করে পাঠাতে পারতেন!

-: উনি বললো না ভাই বাবার করোনা হইছে, এই নিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা পাঠাচ্ছি, টাকা না দিলে ওরা চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। ভাই মা নাই এখন বাবাকেও হারাতে হবে মনেহয়। এখন যদি বাবার কিছু হয় তাহলে মায়ের মতো বাবার জানাজাটাও পড়তে পারবোনা।

এই বলে মানুষটা চোখের পানি ছেড়ে দিছে। আমি আর বেশি কিছু বলে উনার সময় নস্টও করতে চাইনি, সাথে দুঃখটাও বাড়াতে চাইনি। প্রবাসীরা এরকমই হয়

বিঃদ্রঃ ছবিটা উঠানোর পর উনাকে জানিয়েছি।

Related News

Add Comment