কঠিন পরিস্থিতিতেও কাজ করে যাচ্ছেন কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনিরা

কঠিন পরিস্থিতিতেও আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কাজ করে যাচ্ছেন কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনিরা…….

মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তে বর্তমানে সময়ে একমাসের জন্য আংশিক কারফিউ দেওয়ার ফলে প্রতিটা কুয়েতি নাগরিক এবং প্রবাসীরা খুব শীঘ্রই বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেয় এবং বাবা-মা এবং বাচ্চাদের সাথে সময় কাটায় এটা একটা সুযোগ। কিন্তু কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনিরা অনবরত কাজ করে যাচ্ছে প্রবাসী ও এদেশের নাগরিকদেরকে সুরক্ষিত রাখতে। যাতে করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যপক বিস্তার না ঘটে। কারন করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ (Wave) চলছে কুয়েতে।

কারফিউর প্রিরিয়ড বাস্তবায়নে ঘড়ির কাটায় যখন বিকাল ৫ টা ঠিক তখনই নিরাপত্তা বাহিনিদের যেনো বাড়ে দায়িত্ব কারন সুরক্ষায় রাখবে দেশকে। কারফিউ চলাকালিন সময়ে মহাসড়ক অভ্যন্তরে সড়কসহ আবাসিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাঁরা দায়িত্ব পালন করার জন্য। এই দায়িত্ব কার্য সম্পাদন করতে ক্লান্তি বা একঘেয়েমি ছাড়াই দেশপ্রেমিক চেতনা আইন প্রয়োগের জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো কুয়েত জুড়ে প্রায় ৮০০ সুরক্ষা পয়েন্টে (মোবাইল ক্যাম্পিং) স্থাপন করা হয় এবং প্রায় ১২,০০০ নিরাপত্তা বাহিনি মোতায়েন করা হয় সমস্ত গভর্নরকে অন্তর্ভুক্ত করে। এতে কুয়েত ট্রাফিক, পুলিশ, রেসকিউ টিম, ফৌজদারি তদন্ত,স্পেস্যাল ফোর্স এবং বন্দর সুরক্ষার অন্তর্ভুক্তসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সমস্ত সেক্টরের নন-কমিশনড অফিসার ও ব্যক্তিবর্গ রয়েছে।

কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনারা কারফিউ প্রিরিয়ডে মা- বাবা, পরিবার, বাচ্চাদের থেকে দূরে সরে প্রায় ১২ ঘন্টা সময়ই কাজ করে যাচ্ছে। কখনো আবহাওয়া অনুকূলে আকার কখনো প্রতিকূলে, প্রচন্ড বাতাস খারাপ আবহাওয়াতেও সহ্য করতে হয় সব। কারন তাঁরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং দায়িত্বটা যে জাতীয় কর্তব্য।

কারফিউ চলাকালিন সময়ে নিরাপত্তায় থাকা কর্মীরা যে ক্রমাগত ১২ ঘন্টা ডিউটি করে যাচ্ছে, এতে অনেক গুলো প্রয়োজন থেকে তারা বিচ্ছিন্ন যেমন নিষেধাজ্ঞার সময় দোকানপাট,হোটেল বন্দ করে দেওয়া হয় যার ফলে তাদের খাবার এবং পানির প্রয়োজনীয়তা অক্ষমতা প্রতিফলিত হয়। তবে এই দূর্ভোগের কারনে বিগত দিনগুলো থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেস্ব প্রচেষ্টায় তারা বাড়ি থেকে বক্সে করে খাবার নিয়ে আসে এবং খাবার নিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

তদুপরি, তারা তাদের নিজস্ব ব্যয় থেকে তাদের সমস্ত চাহিদা ক্রয় করে যা তাঁদের পক্ষে এটি উপযুক্ত নয়। সকাল থেকে পরের দিন ভোর অবধি কারফিউ নিয়ন্ত্রণ পয়েন্টগুলিতে , যেমন বেসরকারী সংস্থাগুলির সাথে চুক্তির সময় সুরক্ষা পয়েন্টগুলি নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।

এখানে, এটি অবশ্যই লক্ষ করা উচিত যে গত বছর আংশিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় কয়েকটি দাতব্য কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলি নিরাপত্তা বাহিনিদের জন্য খাবার সরবরাহ করেছিলো এছাড়ড়া কিছু কিছু প্রবাসীদের বাড়ির সামনে থাকা সুরক্ষা পয়েন্টগুলি খাবার দিয়েছিলো।

কিন্তু বর্তমানে দুর্ভোগের সাথে যুক্ত হ’ল শৌচাগার বা এর মতো প্রয়োজনীয় সরবরাহ সহ সুরক্ষা পয়েন্টগুলি সুরক্ষিত করতে ব্যর্থতা। যা অত্যান্ত ভোগান্তির এক অশহনীয় ব্যপার।

মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনিদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে তারা “প্রথম সারি” বোনাস রয়েছে – এমনকি তাদের বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও উৎসাহের সাথে কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু গত ১ বছরে এর তেমন কিছুই ঘটেনি। এমনকি “করোনার” ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনও ।

গত বছরের থেকে আজ অবধি নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়নে অংশ নেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সকল কর্মচারীদের সম্মান জানানো এবং তাদের ন্যায্যতা প্রদান করা এবং তাদের সকল মৌলিক চাহিদ পূরন করা প্রয়োজন। কারন তারা দেশ সুরক্ষাতে সরকারের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে কারন এটা তাঁদের জাতীয় কর্তব্য।

এত এত দুর্ভোগ থাকা সত্ত্বেও, হতাশা আর দু:খ নিয়ে সুরক্ষা বাহিনিরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আমাদের নিরাপদে রেখেছে। তাই সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের প্রয়োজন এদের কাজে সহযোগিতা করা এবং তাঁদের সম্মান করা।

আমাদের সুরক্ষিত রাখতে কুয়েতে নিরাপত্তা সেক্টরে কাজ করা প্রতিটা কর্মীকে স্যালুট।

সুত্রঃ আল-রায়

Related News

Add Comment