কুয়েতের ফ্রি ভিসা বলতে আমরা কি বুঝি ও ভুল ধারনা!!

প্রায় এক যুগ কুয়েতের ভিসা বন্ধ থাকার পরে ২০১৬ এর লাস্টের দিকে কিছু ভিসা বেড় হলেও ২০১৭ এর দিকে এসে প্রায় সব ধরনের ভিসাই বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

২০১৮ এর এপ্রিল মাসে ভিসার অনিয়মের জন্য খাদেম ভিসা (২০ আর্টিকেল) সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেয় কুয়েত সরকার, আবার আগস্ট মাসে বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানির (১৮ আর্টিকেল ভিসা) তার পরেও বিভিন্ন কোম্পানি আগে যেই কোম্পানিদের অনুমোদন দিয়ে রেখেছিল সেই কোম্পানিগুলো বাদে এখন কুয়েতে সব ভিসাই বন্ধ।

এই দুই বছরে কুয়েতে অগণিত শিক্ষিত বা কম শিক্ষিত বিভিন্ন পেশায় কুয়েতে চলে আসে সম্পূর্ণ তথ্য না জেনেই। এটা আমি দোষ দিব ভিসার দালাল দের, তারা সম্পূর্ণ তথ্য না দিয়েই ভিসা দিয়েছে বাংলাদেশীদের কাছে।
এই দালালেরা বাংলাদেশের সবাইকে বলেছে যে এখানে ফ্রি ভিসার সুবিধে আছে এবং দাম বেশি তাই সবাই চায় একটু দামি হলেও ভালটাই আমার চাই। কিন্তু এটা জানে না যে কুয়েতে ফ্রি ভিসা বলতে যে কিছু নেই, সব কিছুই মিথ্যে।
হ্যাঁ আমি বলবো কুয়েতে অনেকেই ফ্রি ভিসা নামিক ভিসায় এসে অনেক কিছু করেছে, কিন্তু যখন ফ্রি ভিসা নামক ভিসায় কুয়েতে এসেছিল তখন ভিসার দাম এমন ছিল না এবং বাহিরে কাজ করে ভাল পয়সাও কামিয়েছে।

আমি এখন আমার মূল কথায় আসি, ফ্রি ভিসা বলতে কুয়েতে কোন প্রকার ভিসা নেই আর এই রকম ফ্রি ভিসা কুয়েতে অবৈধ!! কি চমকে গেলেন ? হ্যাঁ ভাই ফ্রি ভিসায় কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ কাজ।

শোন ফ্রি ভিসাঃ
ফ্রি ভিসা হচ্ছে যে কোন কোম্পানি বা কফিলের সরকার অনুমোদিত কোটা দিয়ে থাকে, যেমন ধরেন আমার কোম্পানিতে কাজ করার জন্য ৫০ জনের একটি কোটা দিয়েছে, এখন আমার কোম্পানিতে ২০ জন হলেই কাজ চালিয়ে নিতে পারি তাহলে বাকি থাকে ৩০ টি ভিসা যেটা কিনা ফ্রি ভিসা বলে বাহিরে বিক্রি করে দেয় এবং বিনিময়ে দিনার নেয়, আর এই টাকা এক কালীন না আপনাকে প্রতি দুই বছর পর পর গুনতে হবে এই দিনার, যেটা কিনা প্রথম যেই মূল্যে ভিসা কিনেছিলেন তার প্রায় কাছা কাছি বা অর্ধেক।
আর এই ভিসায় এসে যদি আপনি যেই কোম্পানিতে আসছেন সেই কোম্পানিতে কাজ না করেন তাহলে আপনাকে যে কোন সময় , শোন, বলদিয়া,পুলিশ ধরে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিবে, এখন ২০১৮ এর আইনে যেটার কোন মাপ নেই, আগে জরিমানা করে ছেরে দিলেও এখন সোজা বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেয়।

খাদেম ফ্রি ভিসাঃ
আচ্ছা খাদেম ফ্রি ভিসা হচ্ছে কোম্পানির মতই কিন্তু এটার কিছু ভিন্নতা আছে, খাদেম এর অর্থ হচ্ছে কাজের লোক বা সেবক , এই ভিসাটা কুয়েতিদের দিয়ে থাকে শুধু মাত্র তাদের বাসায় কাজের জন্য বাহিরে অন্য কোথাও দোকান বা কোম্পানি বা রেস্টুরেন্টের জন্য না , এই ভিসায় আপনি এসে যেই কফিলের আন্ডারে আসবেন তার বাসায় কাজ করার অনুমতি আছে শুধু, তাহলে কুয়েতের আইনে আপনি কি ভাবে ফ্রি ভিসায় কাজ করবেন? আর এই ভিসার লোক ও যদি বাহিরে কাজ করতে শোন, বলদিয়া,পুলিশ ধরে তাহলে প্রথমে কফিল ডাকে বা ডাকার প্রয়োজন মনে না করলে সোজা বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেয় এবং পাঠানোর আগ পর্যন্ত কারো সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে দেয় না।

আমার একটা কথাই ভাগ্যের উপরে কিছুই নেই কিন্তু যদি আপনি ৭/৮ লাখ টাকা নিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে এই মরুভূমিতে নিজের জীবনের কঠিন তম সিদ্ধান্ত নিন তাহলে আমি এটাকে ভাগ্যের দোষ দিবনা। এই ৭/৮ লাখ টাকা বাংলাদেশেই কিছু করা যায়।

পোস্ট লেখকঃ নুর আলম বাসার (এডমিন , কুয়েত পেইজ ফর বাংলাদেশী)
যোগাযোগঃ Nabalok2004@gmail.com

Related News

Add Comment