কুয়েতে আবার ও শুরু হতে পারে লকডাউন ও কারফিউ !

সাম্প্রতিক বৈঠককালে মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ বাসেল আল সাবাহ তার উপস্থাপিত পরিকল্পনাগুলি পর্যালোচনা করে বলেছেন যে, যদি করোনা সংক্রমণের ঘটনা আগামী ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের ভিতর বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে রাত ৯ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত আংশিক কারফিউ জারি করা হবে এবং কুয়েত থেকে বিমানের সকল ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। এ ছাড়াও রেস্তোঁরা এবং মার্কেটগুলিও বন্ধ থাকবে এবং শুধু বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য “ফুড ডেলিভারি” সার্ভিসগুলো চালু থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ বাসেল আল সাবাহ আরও জানান যে, ২০২০ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের হার সবচাইতে বেশি ছিল। তারপর, পুরোপুরি লকডাউন দেওয়ার পর তা ৪০ শতাংশ কমে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কঠোর সতর্কতামূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে করোনার “সেকেন্ড ওয়েভ” সেখানকার মানুষদের জীবন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারেনি। একারনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঠোর সতর্কতামূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদে একাধিক সুপারিশ উপস্থাপন করেন। যার মধ্যে রয়েছে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে কাজের সময় হ্রাস করা এবং ৬ থেকে ১০ সপ্তাহ পরে যদি যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটও পুরোপুরি স্থগিত করে দেওয়া হবে।

৬ থেকে ১০ সপ্তাহ পরে সংক্রমণের ঘটনা বাড়লে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া হবে:

১) দুই সপ্তাহের জন্য রাত ৯ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত আংশিক কারফিউ জারি করা হবে।

2) যেসকল অঞ্চলগুলিতে বিপুল সংখ্যক সংক্রমণ ধরা পড়বে, সেগুলো পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হবে।

৩) কুয়েত থেকে আসা এবং যাওয়ার জন্য বাণিজ্যিক বিমান গুলোর চলাচল স্থগিত করা হবে।

৪) মানুষের জমায়েত বেশি হয় এমন মল এবং স্বাস্থ্য ক্লাবগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৫) রেস্তোঁরাগুলি ও বন্ধ থাকবে এবং শুধু “টেক ওয়ে” সার্ভিস চালু থাকবে।

আরও কিছু তাত্ক্ষণিক সুপারিশঃ

১) মানুষের জমায়েতে জনিত ক্রিয়াকলাপ হ্রাস:

-ভিড় এড়াতে সময় ব্যবস্থা প্রয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকাল ১০ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত বাণিজ্যিক এলাকায় কাজের সময় হ্রাস করা।

-রেস্তোঁরাগুলিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চালু করা এবং রাত ৯ টা পর্যন্ত কাজের সময় নির্ধারণ করা।

-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া।

  • দোকান এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নির্দিষ্ট সম্যের ভিতর বন্ধ না করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে।

-স্পোর্টস ক্লাবগুলি বন্ধ করে দেওয়া।

  • স্প্রিং ক্যাম্প গুলো পরিচালনা করতে না দেওয়া।

২) সরকারী ও বেসরকারী কর্মক্ষেত্রের জন্য সুপারিশঃ

-সরকারী ও বেসরকারী কর্ম সংস্থাগুলির উপর স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয়তার সম্মতি অনুসরণের জন্য জোর দেওয়া এবং সেগুলি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

৩) মাস্ক ব্যবহার সম্পর্কিত আইনঃ

ফেস মাস্ক না পরার জন্য তাত্ক্ষণিক জরিমানা, পাশাপাশি সমাবেশের জন্য তাত্ক্ষণিক আর্থিক জরিমানা আইন কার্যকর করা।

৪) উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলির সুরক্ষাঃ

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ রোধ (শীতকালীন টিকা দেওয়ার প্রচারণা) করা। কারণ এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ইনফ্লুয়েঞ্জার সাথে সম্পর্কিত কোভিড -১৯ সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর হার শুধু কোভিড -১৯ এর সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হারের দ্বিগুণ।

৫) মিডিয়ার কার্যক্রমঃ

-মাস্ক পরা এবং শীতকালীন রোগ এবং কোভিড ১৯ রোগের জন্য টিকা দেওয়ার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, মিডিয়ায় এসব প্রচারের জন্য একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা।

-কোয়ারানটাইন লঙ্ঘনকারীদের উপর কি কি শাস্তি হতে পারে তা মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন হিসাবে প্রচার করা।

Source: Arabtimes

Related News

Add Comment