• মন্তব্য
Close

    কুয়েতে শ্রমীকদের ‘রক্তচোষা’ তারেকের করুণ পরিণতি

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। বর্তমানে কুয়েতে প্রায় তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা ও সুনাম রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু বাংলাদেশির কারণে সেই সুনাম আজ নষ্টের পথে।
    ঢাকার গাজীপুরের মোজ্জাম্মেল হক তারেক তাদের মধ্যে তেমনি একজন। ২০০৬ সালে কুয়েতে শ্রমিক হিসেবে আসেন। ক্লিনার থেকে হঠাৎ করেই দেশটির আল তুয়েক নামের একটি কোম্পানির অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে টাকার নেশায় পেয়ে বসে তাকে।

    কুয়েত প্রবাসীরা জানান, কোম্পানির আইন তোয়াক্কা না করে রাজনৈতি প্রভাবে শ্রমিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া শুরু করে। নেপাল, ভারত, শ্রীলংকার নাগরিকরা ১ লাখ টাকায় কুয়েতে আসে অথচ একই ভিসায় বাংলাদেশি শ্রমিক নেয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকায়। আকামা লাগাতে, দেশে ছুটি কাটিয়ে আসার পর পুনরায় কাজে যোগ দিতে অনৈতিক অর্থ দাবি করে।

    তারা জানান, কোনো শ্রমিক যদি টাকা দিতে অস্বীকার করে কিংবা প্রতিবাদ করে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকে মোজ্জাম্মেল হক তারেক। শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকায় কুয়েতে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ফেসবুকে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো সাহায্য সহযোগিতা করে নিজেকে সমাজসেবক ও মানবতার ফেরিওয়ালা জাহির করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    একমাত্র তার কারণে কোম্পানির হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে। এমন কি ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকরা গত নভেম্বর মাসের ২৫ তারিখে অফিস পর্যন্ত ভাংচুর করে তাকে গণধোলাই দেয়। পরে শ্রমিকরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ দেয় বাংলাদেশ দূতাবাসে। শ্রমিকদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা দায়ে করা হলে কুয়েতে স্থানীয় প্রশাসন তারেককে গ্রেফতার করে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর কুয়েতের মিসিলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কোম্পানির মালিক, দূতাবাস ও শ্রমিক প্রতিনিধি সমন্বয়ে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে শ্রমিকদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ২৪ ডিসেম্বর তাকে (ব্লাক লিস্ট) কালো তালিকা করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    শ্রমিকদের ‘রক্তচোষা’ মোজ্জাম্মেল হক তারেকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও কুয়েত প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা।

    কুয়েতে মানবাধিকার কর্মী ও কুয়েত পেইজ ফর বাংলাদেশির অ্যাডমিন নুর আলম বাশার বলেন, আল-তুয়েক কোম্পানির সাবেক অপারেশন ম্যানেজার তারেক সম্পর্কে সবাই আগে থেকে অবগত থাকলেও রাজনৈতিক কারণে কেউ কিছু বলেনি। যখন শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় ঠিক তখনি একই কোম্পানিতে কাজ করা তার পূর্বের সহকর্মীদের হাতেই ‘গণধোলাই’খায়।

    সুত্রঃ যাগো নিউজ, লিখেছেনঃ সাদেক রিপন