কুয়েত প্রবাসীদের দাবী, বিনা খরচে প্রবাসীদের লাশ বহন করতে হবে

কুয়েত সিটিঃ কুয়েতে নবনিযুক্ত মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ আশিকুজ্জামান (এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি+) মহোদয়ের সাথে কুয়েতে অবস্থিত প্রবাসীদের সাথে পরিচিতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় আজ বিকেল ৩ টার সময় কুয়েত দূতালয়ে।

সেখানে থাকা অনেক প্রবাসীদের মধ্যে প্রবাসীদের পক্ষে বা তাদের সমস্যা তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল, সেখানে থাকা কুয়েত প্রবাসী শাহাদাৎ হোসাইন বিক্রমপুরী প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ বিমান কাতারে বিনা খরচে লাশ বহন না করার সিদ্ধান্তে নিন্দা জানিয়ে কুয়েত ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের লাশ সরকারী খরচে অয়াঠানোর দাবী জানিয়েছেন।

এখানে পড়ুনঃ প্রবাসীদের মরদেহ বিনাখরচে বহন করবে না বাংলাদেশ বিমান

শাহাদাৎ হোসাইন বিক্রমপুরী মান্যবর রাষ্টদূত কে বলেন , “স্যার, দীর্ঘদিন বেকার থাকার কারণে বিভিন্ন চিন্তায় প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশী স্ট্রোক করে কুয়েতে মারা যাচ্ছে, তাদের লাশ নিজ খরচে দেশে পাঠানোটা কষ্টসাধ্য ব্যপার, তাই সরকারি খরচে প্রবাসীদের লাশ দেশে পাঠানো হোক, যদিও আগে বিমান বিনা পয়সায় লাশ বহন করতো, ইদানীংকালে শোনা যাচ্ছে বিমান নাকি বিনা পয়য়াসায় লাশ বহন করবেনা, যেটা দুবাইতে বলা হচ্ছে, স্যার, বাংলাদেশীরা নরম মনের মানুষ, আবার যখন কঠোর হই তখন অনেক বেশী কঠোর হয়ে থাকি আমরা, আমাদের লাশ যদি বিমান বিনা খরচে বহন না করে, তখন দেখা যাবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বয়কট করবে, তাই বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানাচ্ছি”।

মান্যবর রাষ্টদূত এর জবাবে বলেন, মহামারি করোনার কারণে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ আছে, আশা করছি বিমান চালু হলে আবার লাশ বহন করা শুরু হবে, স্যার বাংলাদেশ বিমানের ডিজির সাথে গুরত্বের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

কুয়েতে নবনিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ আশিকুজ্জামান স্যার প্রবাসী বাংলাদেশী সামাজিক রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের সাথে পরিচিতিমূলক সভা করেন। উক্ত সভায় মান্যবর রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ বক্তৃতা করেন এবং উনি নিজে থেকেই প্রবাসীদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, রাষ্ট্রদূত মহোদয় উল্লেখ করেন ” আমি কুয়েতে আসার পূর্বে কুয়েতে কর্মরত সাবেক দুই রাষ্ট্রদূত শাহেদ রেজা ও মেজর আশহাব উদ্দিনের সাথে বৈঠক করে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা ও সম্ভাবনার ব্যপারে ধারণা নিয়ে আমি কুয়েতে আসছি”।

রাষ্ট্রদূত মহোদয় কুয়েতে অপকর্মকারীদের ব্যপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন, তিনি বলেন, আমি এম্বাসিকে আপনাদের জন্য ট্রান্সফারেন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, আপনারা এখানে আসবেন, আপনাদের বসার ব্যবস্থা থাকবে, চা পানির ব্যবস্থা থাকবে, কাজ হবে চলে যাবেন, আমার সাথে বা এম্বাসির কোন অফিস্যারের সাথে খোশগল্প করার জন্য আসবেন না, এম্বাসি কারো আড্ডা মারার যায়গা না।

রাষ্ট্রদূত মহোদয় আরও উল্লেখ করেন “আমি অবগত আছি অনেকেই অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এম্বাসিতে সুবিধা দেয়, আপনারা তাকে ধরিয়ে দিন, আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিবো, তবে আপনারাও অতিরিক্ত পয়সা দিয়ে দ্রুত কাজ করানোর চিন্তা করবেন না, আমি জানি আপনাদেরও কিছু কন্ডিশন থাকে, আপনারা দূরে থাকেন, এম্বাসিতে আসলে গেলে ডিউটি মিস হয়, গাড়ি ভাড়া লাগে, তাই আপনারাও চিন্তা করেন কিছু টাকা বেশি দিয়ে কাজটা সহজে করিয়ে নিতে, আপনারাও এই কাজগুলো করবেন না”।

রাষ্ট্রদূত মহোদয় তার দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রবাসীদের সমস্যা হ্রাস করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন, উনি বলেন, দেখা গেছে অনেকেই শুধুমাত্র কিছু প্রশ্ন উত্তর জানার জন্য দূতাবাসে কাজ বন্ধ করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে এসে থাকেন, আপনাদের যাতে শুধুমাত্র পরামর্শের জন্য এম্বাসিতে আসতে না হয়, সে জন্য হটলাইন সেবা চালু করার কথা উল্লেখ করেন, মাসে অন্তত দুইবার প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় সভা করার কথা উল্লেখ করেন৷

Related News

Add Comment