কুয়েত প্রবাসীদের স্বাস্থ্য তথ্যঃ হিট স্ট্রোক কি? এর মেডিকেল ব্যাখা কি?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক।

 হিট স্ট্রোক : 
স্ট্রোক শব্দটির জন্য ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে হওয়া স্ট্রোক এর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম হিট স্ট্রোক। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোক আক্রান্ত হয় কারা : 
প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যেমন—শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।যারা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ : 
শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।বমির ভাব/ বমিত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।নিঃশ্বাস দ্রুত হয়।রক্তচাপ কমে যায়।খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

এই ক্ষেত্রে কি করণীয় : 
দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।আক্রান্ত রোগীকে  ঠাণ্ডা জায়গায় শুইয়ে দিতে হবে। পায়ে বরফের  টুকরা/ ঠাণ্ডা পানির বোতল দেয়া যেতে পারে। গায়ে,মুখে ঠাণ্ডা পানি ছিটাতে হবে।পরিমিত পানি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে এক সাথে প্রচুর পানি দেয়া যাবে না।ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পানি/ স্যালাইন খাওয়াতে হবে।পটাসিয়াম সমৃদ্ধ পানি/খাবার যেমন ডাবের পানি দেয়া যাবে না।চা বা কফি পান করবেন না।সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।সেক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।সামনে প্রচন্ড গরম আসছে, তাই গরমে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে এর থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

(সংকলিত) 

Related News

Add Comment