স্বাভাবিক হওয়ার খুব কাছে কুয়েত!

ইকরাম হোছাইন, কুয়েত সিটি থেকে …..
আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে ফেরার লক্ষ্যে খুব দ্রুত এগুচ্ছে কুয়েত! শুরু থেকেই করনার (কোভিট ১৯) বিরুদ্ধে একযোগে শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে কুয়েতের স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষজন ও প্রশাসন। অভিবাসী অধ্যুষিত দেশ কুয়েতের করনা বিরোধী শক্ত ও অর্থবহ পদক্ষেপের ফল দেশটি হাতেনাতে পাচ্ছে! স্বাভাবিক হচ্ছে কুয়েতের জনজীবন …

কুয়েতের সরকারি বেসরকারি অফিসসমুহ, হোটেল রেস্তরা, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম ” স্বাভাবিককরনের চতুর্থ ধাপে ” নতুন করে গতি পেয়েছে! উল্লেখ্য, করনা প্যানডেমিক চলাকালীন সময়ে কুয়েত সরকার স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফেরার জন্য ৫ টি স্তর বা ধাপের কথা বলেছিলেন!

করনার ( কোভিড 19) এর শুরু থেকেই কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর, করনা মোকাবেলায় দারুন পারদর্শীতা দেখিয়েছে! গালফের অন্যান্য স্টেটের চেয়ে কুয়েতের করনা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে ভালো বলা চলে!

কুয়েতের আজকের দিনগুলো আবার কোলাহলে ভরে উঠেছে! কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল ও এরিয়াগুলো! মার্কেট ও শপিংমল গুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য লক্ষনীয়! নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় মসজিদ গুলোতে জুম্মার নামাজ সহ ৫ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে! যদিও অভিবাসী ও নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিধিমালা ও সোশ্যাল ডিসটেন্স এর প্রতি লক্ষ্য রেখেই এইসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে!

কুয়েতের পাবলিক বাস গুলো চলছে : নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠে কুয়েতের রাস্তায় আবার নেমেছে পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন! কুয়েতের অভিবাসীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট!

ট্রাফিক ও রেসিডেন্সিয়াল কার্যক্রম : যদিও, লকডাউন বা পুর্নমাত্রায় কারফিউ চলাকালীন সময়েও কুয়েত সরকারের বদন্যতায় অভিবাসিদের আকামা বা বৈধতা নবায়নে অনলাইনে ই সমস্ত কার্যক্রম সেরে ফেলা গেছে, এখন ম্যানুয়ালি দাপ্তরিক কার্যক্রম ৩০% উপস্থিতি নিশ্চিত থাকায় ট্রাফিক ও আকামা নবায়ন সহ অন্যান্য কাজে গতি বেড়েছে বহুগুনে!

কারফিউ ও লক ডাউন : কুয়েতে সাগামী ৩০ আগস্ট সব ধরনের কারফিউ উঠে যাচ্ছে, চলমান আংশিক কারফিউ রাত ৯ টা থেকে ভোর রাত ৩ টা পর্যন্ত থাকলেও ৩০ তারিখের পর আর এই কারফিউ বা বিধিনিষেধ থাকছে না! অন্যদিকে, করনা নিয়ন্ত্রণে কুয়েত সরকারের জারি করা অঞ্চল ভিত্তিক লকডাউন আর নেই, সারা কুয়েতে কোথাও লকডাউন নেই!

বানিজ্যিক বিমান চলাচল বা অভিবাসী ফেরত : এটা বহুল প্রত্যাশিত একটি বিষয় যে, কুয়েত থেকে ছুটিতে যাওয়া বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীরা কবে ফিরতে পারবে কুয়েতে! পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে এটা নিয়ে বহু আলোচনা – পর্যালোচনা বিশ্লেষণ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শুন্যই থেকেছে! বিমান আসেনি কুয়েত এয়ারপোর্টে অর্থাৎ ফেরেনি কোন অভিবাসীও!

তবে এবার আশা করা যাচ্ছে, কেননা গতকালই এটা নিয়ে ( অভিবাসীদের ফেরত) খসড়া একটি নীতিমালার কথা এসেছে! কুয়েতের সরকারী মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকেপড়া প্রবাসীদের ধীরে ধীরে কুয়েতে প্রত্যাবাসন বা ফেরত আনার বিষয়ে সরকারি একটি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে! কুয়েতের জাতীয় বার্তা সংস্থা কুনার ভেরিফায়েড টুইটার একাউন্ট সুত্রে এই নিউজ জানা গেছে! যথাযথ স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুসরণ করে কুয়েত খুব জলদি এয়ারপোর্ট খুলে দিবে এটা খুব সহজেই অনুমেয়, তবে নির্দিষ্ট বা নিষেধাজ্ঞা থাকা দেশগুলোর করনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিবে কুয়েত সরকার, এমনটাই ইংগিত দেওয়া হয়ছে সুত্রে!

নিষেধাজ্ঞা উঠলেও, কুয়েতের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ বাসেল আল সাবাহ আগেই ব্যক্ত করেছিলেন যে, করনা পরিস্থিতির উত্তরন ঘটলেও, আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা অব্যাহত রাখতে হবে! গতকালও কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল স্পোকম্যান ডাঃ আব্দুল্লাহ আল সানাদ নিজের টুইটার একাউন্টে ছোট্ট একটা টুইট করে জানিয়েছেন যে, কুয়েতে করনা ( কোভিট 19) আক্রান্ত রোগীদের সুস্থতার হার ৯০.০৭%! আমরা ফিরব আবার আগের মতো জীবনে, এই প্রত্যাশাই করি!

Related News

Add Comment